অর্থনীতি

ফলের উৎপাদন-আমদানি বাড়ছে সমান তালে

গত ১০ বছরে দেশের আম ও পেয়ারার উৎপাদন দ্বিগুণ, পেঁপে আড়াই গুণ, লিচু উৎপাদন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া কমলার উৎপাদন প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। মাল্টার উৎপাদন বাড়ছে ১৫-২০ শতাংশ হারে।

মানুষের শরীরের আবশ্যকীয় বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের উৎস হলো ফল। সামর্থ্যবান ছাড়া একটি সময় বেশির ভাগ মানুষ ফল কিনতেন রোগীর জন্য। সে দিন অনেক আগেই পাল্টেছে।

খাদ্যাভ্যাসে এসেছে পরিবর্তন, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভাত-মাছ-সবজির মতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ফল। এখন মানুষ চেষ্টা করে প্রতিদিন ফল খাওয়ার।

এদেরই একজন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাইদুল ইসলাম। মাসব্যাপী করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার পর এখন তিনি দৈনন্দিন খাবারে অতি সতর্ক। তার খাদ্যতালিকায় যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিকর ফল, যা আগের অভ্যাসে ছিল না।

ফলের চাহিদা বাড়ায় এবং তা সরবরাহ করতে দেশে তৈরি হয়েছে এর একটি বড় বাজার।

সে তালিকায় অবশ্য রং, গন্ধ, স্বাদ ও পুষ্টির বিচারে দেশি ফল অনন্য। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিবছর বাড়ছে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ফলমূলের বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বাজারজাত।

তবে দেশীয় ফল উৎপাদনে প্রত্যাশিত অগ্রগতিতেও বিদেশি ফলের আমদানি হচ্ছে সমান তালে। কারণ দেশে যেসব ফল উৎপাদন হয় তার প্রায় ৬০ ভাগ উৎপাদিত হয় জুন-জুলাই ও আগস্টে। শীতকালে ফল পাওয়ার সুযোগ কম ও অনেক ধরনের ফল দেশে উৎপাদন না হওয়ায় আমদানি করতে হয়।

কোনো কোনো ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ শ্রেষ্ঠত্বের তালিকায় থাকলেও চাহিদার জন্য বড় একটা অংশ আমদানি করতে হয়

বাংলাদেশ ব্যাংক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বছরওয়ারি হিসাবে পার্থক্য থাকলেও প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী ফল আমদানিতে গড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি, মাল্টা, চেরি, আনার, বরই, আম ছাড়াও বেবি ম্যান্ডারিন, পাম, নেকটারিন, কিউই, সুইট মিলন, অ্যাভোকাডোর মতো কিছু অপরিচিত ফলও আমদানি করা হয়।

পুষ্টিমান বিশেষজ্ঞরা জানান, ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ছাড়াও বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ক্যানসার প্রতিরোধী উপাদান অ্যান্থোসায়ানিন, লাইকোপেন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপস্থিত থাকায় এই মরণব্যাধি থেকেও রক্ষা পেতে সাহায্য করে।

ফল বিক্রেতারা জানিয়েছেন, উচ্চবিত্তরা আগে থেকেই তাদের নিয়মিত কেনাকাটার তালিকায় ফলমূল রাখতেন। এখন এ কাতারে যোগ হয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণিও। আবার বিরতি দিয়ে হলেও ফল খাওয়ায় মনোযোগী হয়েছে নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ।

পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প (ডিএই) তথ্য মতে, আয়তনে বিশ্বের অন্যতম ছোট দেশ হলেও বাংলাদেশ ফল উৎপাদনের সফলতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। এখন দেশে ৭২ প্রজাতির ফলের চাষ হচ্ছে।

জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার (এফএও) মতে, ১৮ বছর ধরে বাংলাদেশে সাড়ে ১১ শতাংশ হারে ফল উৎপাদন বেড়েছে। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়, আমে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে আছে। আর মৌসুমি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান দশম।

গত ১০ বছরে দেশের আম ও পেয়ারার উৎপাদন দ্বিগুণ, পেঁপে আড়াই গুণ, লিচু উৎপাদন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া কমলার উৎপাদন প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। মাল্টার উৎপাদন বাড়ছে ১৫-২০ শতাংশ হারে।

গত কয়েক বছর ধরে নতুন ফল ড্রাগন, অ্যাভোকাডো এবং দেশি বাতাবি লেবু, তরমুজ, লটকন, আমড়া ও আমলকীর মতো পুষ্টিকর ফলের উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়ছে।

Back to top button